ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সম্পূর্ণ গাইড

একজন নতুন আবেদনকারী থেকে স্মার্ট কার্ড পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, খরচ, সময় ও নিয়মকানূন এক জায়গায়

সময় লাগবে

১৫-৬০ দিন

ধাপ ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী

সরকারী খরচ (প্রায়)

৯০০০-৩০,০০০ টাকা

ধাপ ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী

মোট ধাপ

৬টি প্রধান ধাপ

লার্ণার থেকে স্মার্ট কার্ড পর্যন্ত

৫/১০ বছর মেয়াদী

পেশাদার/অপেশাদার

গাড়ি চালনার ধরন অনুযায়ী

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এক নজরে

লার্ণার লাইসেন্স

আবেদন ও সঠিক তথ্য প্রদান

লার্ণার পাওয়ার পর

প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি

ড্রাইভিং টেস্ট

লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক

বায়োমেট্রিক

পরীক্ষার দিনই তথ্য সংগ্রহ

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স

পরীক্ষায় পাশের পর

স্মার্ট কার্ড

আবেদনের মাধ্যমে

লার্ণার লাইসেন্স

যোগ্যতা

বাংলাদেশী নাগরিক
18 বছর (অপেশাদার)
21 বছর (পেশাদার)
নূনতম ৮ম শ্রেণী পাস
শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি
ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান কপি
শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদপত্রের কপি
রেজি: ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত মেডিক্যাল সার্টিফিকেট

পেশাদার নাকি অপেশাদার ?

লার্ণার লাইসেন্স আবেদন করার সময়ই পেশাদার বা অপেশাদার লাইসেন্স নির্ধারণ করে নিতে হবে।

অপেশাদার

2500 কেজি ওজনের নিচে যানবাহন
ব্যক্তিগত ব্যবহার, নতুন কেনা গাড়ি
প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল

অপেশাদার লার্ণার লাইসেন্স আবেদন করার সময়ই হালকা মোটরযানের সাথে মোটরসাইকেল যোগ করে নেয়া যায়।

মেয়াদ/নবায়ন

অপেশাদার — 10 বছর : 4,547 টাকা
পেশাদার — 05 বছর : 2,831 টাকা

পেশাদার

2500+ কেজি ওজনের নিচে যানবাহন- পেশাদার হালকা
6000 কেজি পর্যন্ত ওজনের নিচে যানবাহন – পেশাদার মধ্যম
6000+ কেজির যানবাহন – পেশাদার ভারি ক্যাটাগরির অর্ন্তভুক্ত
পেশাদার গাড়ি চালক, হেভি ট্রাক, লরি, ট্রেইলার, বড় বাস প্রভৃতি

আবেদন প্রক্রিয়া

বিআরটিএ অনলাইন পোর্টালে নতুন একাউন্ট নিবন্ধন
নিবন্ধন শেষে নাম,ঠিকানা সহ অন্যান্য তথ্য প্রদান পূর্বক প্রোফাইল হালনাগাদ
লাইসেন্সের ধরন নির্বাচন, স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তির ঠিকানা সহ অন্যান্য তথ্য প্রদান
এনআইডি, সার্টিফিকেট, বিলের কপি, মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি স্ক্যান কপি আপলোড
অনলাইন পেমেন্টে গেটওয়ের মাধ্যমে ফি প্রদান
লার্ণার লাইসেন্স কপি ডাউনলোড ও সংরক্ষণ

বিআরটি পোর্টালে নিবন্ধনের সময় আপনার এনআইডি দিয়ে রেজিস্টার্ড মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করুন।

ফি পরিশোধ

শুধু বাইক অথবা কার345 টাকা
বাইক + কার518 টাকা
দুই ক্যাটাগরি748 টাকা

ফি জমা দেওয়ার সাথে সাথেই সিস্টেম থেকে ডিজিটাল লার্নার লাইসেন্স জেনারেট হবে। এটি প্রিন্ট করে নিন। এই কপিতেই আপনার পরীক্ষার তারিখ ও কেন্দ্রের নাম লেখা থাকবে।

লার্ণার লাইসেন্স পাওয়ার পর

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর সাধারণত ২ থেকে ৩ মাস গাড়ি চালনার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এরপর লার্নারে নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।

সঠিক প্রশিক্ষণ ও অনুশীলণ

ড্রাইভিং পরীক্ষায় উত্তির্ণ হতে সঠিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

বিআরটিএ নিবন্ধিত ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুলে
বিআরটিএ নিবন্ধিত ও স্বীকৃত মোটরযান প্রশিক্ষকের কাছ থেকে
আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্রশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

পরীক্ষায় 20 টি প্রশ্নের মধ্যে সবগুলির উত্তর দিতে হবে
রাস্তায় গাড়ি চলাচল, নিয়ম কানুন, সচেতনতা সম্পর্কে প্রশ্ন থাকে
ট্রাফিক নিয়ম, আইন ও সচেতনতা বিষয়ে প্রশ্ন থাকে

ড্রাইভিং টেস্ট

ড্রাইভিং টেস্টটি ৩টি ধাপে, যথা- লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপে পৃথক পৃথক ভাবে পাশ করতে হবে।

লিখিত

ট্রাফিক নিয়ম, গাড়ি চালনায় সচেতনা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে।

20 টি প্রশ্ন থাকবে সবগুলোর উত্তর দিতে হবে।
পূর্ণমান-20, পাশ নম্বর -12, সময়- 20 মিনিট
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নিজ হাতে লিখে দিতে হবে।

পরীক্ষার দিন শুধুমাত্র আপনার লার্ণার লাইসেন্স এর মূল কপি ও ১টি কলম সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।

মৌখিক

ট্রাফিক সাইন ও সিগনাল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।

বোর্ডে টাঙানো ট্রাফিক সাইন ও রোড মার্কিং নিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে
বাধ্যতামূলক, সর্তকতামূলক ও তথ্যমূলক চিহ্ন সম্পর্কে প্রশ্ন হবে
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন, অযথা তাড়াহুড়ো করবেন না, মনে রাখবেন পরীক্ষক সর্বদা নজর রাখছেন

ব্যবহারিক

সরজমিনে মোটরযান চালিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।

জিগজাগ বা এল পার্কিং করতে দেয়া হবে
অটো বা ম্যানুয়াল গিয়ারের গাড়ি হতে পারে।
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

পরীক্ষার দিনই আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট, রেটিনা স্ক্যান ও ছবি নেয়া হবে, যা স্থায়ীভাবে আপনার লাইসেন্সে সংরক্ষিত থাকবে

বায়োমেট্রিক

ফিঙ্গারপ্রিন্ট

রেটিনা স্ক্যান

ছবি

স্বাক্ষর

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড

ড্রাইভিং টেস্টে উত্তির্ণ হলে সাধারণত পরদিনই অনলাইনে ফলাফল প্রকাশিত হয়।

SMS

পরীক্ষায় উত্তির্ণ হলে আপনার মোবাইল নাম্বারে একটি কনফার্মেশন আসবে। অনুত্তির্ণ হলেও তা জানিয়ে দেয়া হবে এবং পুনরায় লার্ণার আবেদন করার জন্য বলা হবে।

BSP Portal

BSP portal এ পুনরায় লগইন করুন, সব তথ্য আগেই দেয়া আছে তাই, নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

পুনরায় SMS

অনলাইন ফি জমা প্রদান সম্পন্ন হলে পরবর্তী 24 ঘন্টার মধ্যে পুনরায় আপনার মোবাইলে মেসেজে আসবে, উক্ত মেসেজে আপনার ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করতে বলা হবে।

ই-ড্রাইভিং

পুনরায় BSP Portal এ লগইন করে আপনার ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করুন এবং পরবর্তী ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করুন। এটাই আপনার গাড়ি চালানোর জন্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুমোদন পত্র

স্মার্ট কার্ড

আপনার মূল পিভিসি (PVC) স্মার্ট কার্ডটি প্রিন্ট হয়ে প্রস্তুত হলে আপনার মোবাইলে এসএমএস (SMS) পাঠানো হবে। মেসেজ পাওয়ার পর অস্থায়ী ই-লাইসেন্স বা লার্নার স্লটটি জমা দিয়ে নির্দিষ্ট বিআরটিএ অফিস থেকে মূল স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। বর্তমানে এটি ডাকযোগেও হোম ডেলিভারি নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।